পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং শুরু করবেন যেভাবে

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কী?

পার্সোনাল ব্রান্ডিং হলো কোনো ব্যাক্তি বা পার্সন কে ব্র্যান্ড বানানোর প্রক্রিয়া। এটি একটি চলমান এবং দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া।  ব্র্যান্ড বলতে আপনি কি বোঝেন? সহজ ভাষায় ব্র্যান্ড মানে হলো বিশ্বাস।  তখই আপনি কোনো কিছুকে ব্র্যান্ড বলবেন যখন সেই কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান আপনার বিশ্বাস অর্জন করে এবং তার পন্য এবং সেবা দিয়ে আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারে। ঠিক একই ভাবে পার্সোনাল ব্র্যান্ড বলতে সেই সব  ব্যাক্তিগত ব্র্যান্ড কে বোঝায় যা তার ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যান্ন সবার থেকে বহুল পরিচিত, আলাদা এবং আপনাকে তার সেবা বা প্রডাক্ট দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। আর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি হয় তাই হলো ” ব্যাক্তিগত ব্র্যান্ডিং” বা পার্সোনাল ব্রান্ডিং।

যেভাবে শুরু করবেন পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং

পার্সোনাল ব্রান্ডিং একটি দীর্ঘমেয়দী প্রক্রিয়া। একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ড একদিনে তৈরি হয়না। একটা শক্তিশালী পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি হতে অনেক সময় লেগে যায়। এই ব্লগে আমি কিছু চেকলিস্ট দেবো, সেগুলো ফলো করে আমরা আমাদের ব্রান্ডিং এর যাত্রা শুরু করতে পারি। 

target

ক্লিয়ার মিশন

পার্সোনাল ব্র্যান্ডের অবশ্যই একটি ক্লিয়ার মিশন থাকতে হবে। যথাযত মিশন এবং উদ্যেশে এবং লক্ষ্য পূরণের জন্য একজন পার্সোনাল ব্রান্ড কাজ করবে। ব্রান্ডিং যার্নির শুরুতেই মিশন, ভিশন এবং গোল ক্লিয়ার করে নিতে হয়। আপনার ব্রেইন যত বেশী ক্লারিটি পাবে তার জন্য কাজ করা ঠিক ততবেশী সহজ হবে।

target (2)

টার্গেট নিশ

পার্সোনাল ব্র্যান্ডের জন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট নিশ থাকা উচিত। নির্দিষ্ট নিশ ব্যতিত ব্রান্ডিং এর যাত্রা শুরু হতে পারেনা। প্রডাক্ট এর ক্ষেত্রে যেমন বিভিন্ন ক্যাটাগরি হয় ঠিক একই ভাবে একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ড কোন একটা নির্দিষ্ট নিশে  কাজ করবে ।  নির্দিষ্ট নিশ ব্যতীত কখনোই কোন  পার্সোনাল ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তবে অনেক সময় একই ব্র্যান্ডের একাধিক নিশ থাকতে পারে।

logo-design

ব্র্যান্ড লোগো

পার্সোনাল ব্রান্ডিং এর অন্যতম একটি প্রধান এবং জরুরি এলিমেন্ট হচ্ছে লোগো।  আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডের অবশ্যই একটি লোগো থাকা উচিত।  সেটা টাইপো লোগো হতে পারে অথবা ব্রান্ডের ছবি দিয়েও কোন লোগো হতে পারে।  লোগোর কারণে আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড একটা অন্য মাত্রা পাবে এবং এই লোগো আপনার ব্রান্ডের ভিজিবিলিটি বাড়াতেও হেল্প করে।ব্রান্ড আইডেন্টিটির অন্যতম একটা প্রধান উপাদান হচ্ছে লোগো।  কাজেই ব্রান্ডিং জার্নি শুরুতেই আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত ব্রান্ডের জন্য একটা সুন্দর লোগো  ক্রিয়েট করতে হবে।  আপনি চাইলে কোন টাইপ লোগো করতে পারেন অথবা সিগনেচার লোগো  করতে পারেন অথবা আপনার ছবিটাকেই ক্লিপিং আর্ট করে কোন একটা লোগো হতে পারে। 

target (1)

টার্গেট অডিয়েন্স

পার্সোনাল ব্র্যান্ডের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  এলিমেন্ট হচ্ছে টার্গেট অডিয়েন্স।  নির্দিষ্ট অডিয়েন্স ব্যতীত কখনোই একটা পার্সোনাল ব্রান্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।  আপনি যে ইন্ডাস্ট্রির হন না কেন  অথবা আপনার নিশ যাই হোক না কেন আপনার অবশ্যই একটা টার্গেট অডিয়েন্স থাকা দরকার।  এবং আপনার ব্র্যান্ডিং যাত্রার যাবতীয় কার্যক্রম শুধুমাত্র আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের জন্যই চলমান থাকবে। আপনার কমিউনিকেশন এবং কনটেন্ট প্যাটার্ন সবসময় এর জন্য আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের উপর নির্ভর করেই হবে । অর্থাৎ আপনার টার্গেট   অডিয়েন্স  যেভাবে শুনতে চায়  বা পছন্দ করে আপনার কমিউনিকেশন প্যাটার্ন সেভাবেই হওয়া উচিত।

customer

কমিউনিটি

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  চেক লিস্ট হচ্ছে কমিউনিটি তৈরি করা।   এবং এই কমিউনিটি তৈরির কাজটা আপনাকে প্রথম দিন থেকেই করতে হবে।  আপনার টার্গেট অডিয়েন্স থেকে যারা আপনার প্রতি ইন্টারেস্টেড হবে অথবা আপনার সাথে কাজ করতে পছন্দ করবে তাদেরকে নিয়ে অবশ্যই আপনার একটি সুন্দর কমিউনিটি  তৈরি করতে হবে।  এই কমিউনিটি আপনি প্রথম থেকে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে করতে পারেন।  এটি এমন একটা ওপেন কমিউনিটি হবে যেখানে আপনার অডিয়েন্স চাইলেই তাদের মতামত প্রদান করতে পারবে অথবা আপনার প্রদানকৃত কোন কনটেন্ট এ কমেন্ট করতে পারবে।  এবং চাইলে তারা নিজেদের পছন্দমত ফিডব্যাক প্রদান করতে পারবে। প্রথমদিকে হয়তো আপনি আপনার কমিউনিটিতে খুব বেশি সংখ্যক লোক পাবেন না তবে আস্তে আস্তে এই কমিউনিটি একটা সময়  সমৃদ্ধ হবে। আপনার ব্র্যান্ডিং চলমান থাকবে এবং দিনে দিনে অনেক বেশি  অডিয়েন্স আপনার এই কমিউনিটিতে যুক্ত হবে।

logo

ব্রান্ড বাউন্ডারিজ

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এ আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ইলিমেন্ট হচ্ছে ব্রান্ড বাউন্ডারিজ।  বাউন্ডারিস বলতে এখানে লিমিটেশন বোঝানো  হয়েছে।  একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ড কি কি করবে এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ একই ভাবর কোন কোন কাজগুলো করবে না সেটা নির্ধারণ করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।  আপনাকে শুরুর দিন থেকেই ঠিক করে নিতে হবে যে কোন কাজগুলো আপনার ব্রান্ড করবে না এবং কোন কাজগুলো আপনার ব্রান্ডের জন্য অনুচিত।  আপনাকে অবশ্যই সেই কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। 

আরও আসছে ,চলমান ...............।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *