বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার নিয়ম
বাংলাদেশে বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) এবং ই-পাসপোর্ট (e-Passport) দেওয়া হয়। এখন নতুন আবেদনকারীদের জন্য শুধু ই-পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
✅ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট করার জন্য নিচের কাগজপত্র লাগবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ
- জন্ম সনদ (১৮ বছরের নিচে হলে বাধ্যতামূলক)
- SSC/সমমানের সার্টিফিকেট (শিক্ষাগত প্রমাণের জন্য)
- পিতা-মাতা/স্বামীর/স্ত্রীর NID এর ফটোকপি
- ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল/গ্যাস বিল/টেলিফোন বিল ইত্যাদি – থাকলে ভালো হয়)
- পুরানো পাসপোর্ট (আগে থাকলে)
- ছবি (অনলাইনে আপলোড করতে হয় না, অফিসে ছবি তোলা হবে)
✅ পাসপোর্টের ধরন
বাংলাদেশে সাধারণত ৩ ধরনের পাসপোর্ট আবেদন করা যায়:
- স্ট্যান্ডার্ড ডেলিভারি – ২১ কার্যদিবস
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি – ৭ কার্যদিবস
- সুপার এক্সপ্রেস (জরুরি) – ২ কার্যদিবস
✅ ফি (২০২৫ অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট ফি)
| মেয়াদ | পৃষ্ঠা সংখ্যা | সাধারণ (স্ট্যান্ডার্ড) | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|---|
| ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৳৪,০২৫ | ৳৬,৩২৫ | ৳৮,৬২৫ |
| ৫ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৳৫,৭৫০ | ৳৮,০৫০ | ৳১০,৩৫০ |
| ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৳৫,৭৫০ | ৳৮,০৫০ | ৳১০,৩৫০ |
| ১০ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৳৮,০৫০ | ৳১০,৩৫০ | ৳১২,৬৫০ |
✅ আবেদন করার ধাপ (Step by Step)
১. অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ
👉 অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকো: https://www.epassport.gov.bd
- “Apply Online” এ ক্লিক করো।
- ফর্ম পূরণ করো (ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর ইত্যাদি)।
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তথ্য দাও।
- শেষে ফর্ম সাবমিট করে প্রিন্ট আউট নাও।
২. ফি জমা দেওয়া
- নির্ধারিত ফি ব্যাংক/সোনালী ব্যাংক/অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে জমা দাও।
- ফি জমার রশিদ অবশ্যই রেখে দাও।
৩. পাসপোর্ট অফিসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট
- অনলাইনে আবেদন করার পর একটা তারিখ পাওয়া যাবে।
- সেই তারিখে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।
৪. বায়োমেট্রিক এবং ছবি তোলা
- অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি এবং সিগনেচার দিতে হবে।
- সব কাগজ যাচাই করা হবে।
৫. ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
- স্থানীয় থানায় বা RAB এর মাধ্যমে ভেরিফিকেশন হবে।
- সব ঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদিত হবে।
৬. পাসপোর্ট সংগ্রহ
- নির্ধারিত সময় শেষে SMS এর মাধ্যমে জানানো হবে পাসপোর্ট রেডি।
- নির্ধারিত অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
❗ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- তথ্য অবশ্যই সঠিক হতে হবে (নাম, জন্মতারিখ, NID অনুযায়ী)।
- একই ব্যক্তি দুইটি আলাদা পাসপোর্ট করতে পারবেন না।
- মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য আবার আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশে এখন পাসপোর্ট করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনলাইনে আবেদন, ফি জমা আর বায়োমেট্রিক দিলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাতে চলে আসে ই-পাসপোর্ট। তবে সব তথ্য অবশ্যই সঠিকভাবে দিতে হবে, নাহলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।

